মাতৃ দিবস
পড়া: 3
ডাউনলোড: 0
প্রিন্ট/PDF: 0
মাঝে মাঝে তুলে ধরছে মাথার কাছ বরাবর
মনে হচ্ছে, কেউ একজন আসছে ওই দূরে
অন্ধকারের বুক চিরে দৃষ্টি তীক্ষ্ণ থেকে তীক্ষ্ণতর
পায়ে পায়ে হেঁটে চলছে রাত
রাজপুত্র ছেলে শহরে গেছে আড্ডা দিতে
ওদিকে ঢাকা দেওয়া ভাত ক্রমশ শীতল হচ্ছে
মন পুড়ছে কাঠের আগুনের মতো
দাঁড়িয়ে থাকা পা দুটো ক্রমশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে
বাতের ব্যথাগুলো বড্ড জ্বালাচ্ছে ইদানিং
ছেলেকে বলেছে ক-দিন
ছেলে অবশ্য বলেছে, ঠিক আছে-ঠিক আছে......হবে খন
সাময়িক-বাধ্যাগুলো এখন নেই
সত্যিই তো এত বলার কি আছে
বেচারা সারাদিন কত কষ্ট করে,
একটু না হয় শহরে যায় আড্ডা দিতে
বলেছে তো.....সময় হলেই ব্যবস্থা নেবে
ওই বুঝি রাজপুত্র ছেলে তার ফিরছে
জোনাকির মতো হাতের টর্চবাতিটা
দোল খেয়ে একবার জ্বলছে আবার নিভছে
পা দুটো তার টলছে....যেমন টলে প্রতিটি দিন
চোখ ছোটো করে প্রশ্ন ছুড়ে দেয় অন্ধকারে, কে বাবা
রাজা?
এত দেরি.....বাতের ব্যথাটা বড্ড জ্বালাচ্ছে আজ
শহর ফেরত ছেলে, গম-গমিয়ে ওঠে কণ্ঠস্বর
আঃ, কেন যে দাঁড়িয়ে থাকো বুঝতে পারি না কিছুতেই
স্নেহের আসন পেতে ভালোবাসার থালা এগিয়ে দিয়েছে মা
খেতে বসেছে রাজপুত্র ছেলে, গিলছে গোগ্রাসে
পবিত্র দৃষ্টিতে দেখছে, আহা খুব খিদে পেয়েছে নিশ্চয় !
মুখে খাবার ছেলে বলে, বন্ধুর মা-টা আজ মরে গেল
বয়স হয়েছিল, তার উপর নানা রোগ, ব্যথা- বেদনা
কেবল খরচ আর খরচ, তার থেকে এই ভালো
মা শোনে, এক মনে তাকিয়ে থাকে রাজপুত্র ছেলের দিকে
সর্বাঙ্গে ম্লান হাসি ছড়িয়ে বলে, আহারে মানুষটা খুব
পুণ্যবতী ছিল
এই কবিতার আবৃত্তি
এই কবিতার কোনও প্রকাশিত আবৃত্তি এখনও আর্কাইভে নেই।
আপনার অনুভূতি
কনটেন্ট রিপোর্ট করুন
অভিযোগ জানাতে সদস্য হিসেবে প্রবেশ করুন।
মন্তব্য ও উত্তর