একলা শরতের গান
পড়া: 4
ডাউনলোড: 0
প্রিন্ট/PDF: 0
প্রথম রোদ এসে পড়ে ঘাসের ডগায়,
তখনই বোঝা যায়— বাতাস পাল্টে গেছে।
বাতাস এখন আর আগের মতো ভারী নয়,
তাতে ভেসে বেড়াচ্ছে একটা আলতো হিমেল স্পর্শ।
উঠোন জুড়ে ছড়িয়ে থাকা কমলা বোঁটার শুভ্র শিউলিগুলো
যেন নীরবে ফিসফিস করে বলে যায়,
"মা আসছেন, আর তো মাত্র ক’দিনের অপেক্ষা।"
ছোটবেলার সেই কুড়োনো শিউলির গন্ধটা
আজও বদলায়নি।
আঁচল ভরে শিউলি কুড়োনোর সেই ভোরগুলো
আজও মনের ভেতরের অচেনা কোণে ডেকে ওঠে।
ভোরের সিক্ত বাতাসে যখন
সেই মিষ্টি আকুল করা সুবাস ভেসে আসে,
বুকের ভেতর জমে থাকা সারা বছরের
সব ক্লান্তি আর গ্লানি এক নিমেষে হারিয়ে যায়।
শিউলি যেন কেবল একটি ফুল নয়,
শিউলি হলো নিখাদ অনুভূতির নাম—
যে অনুভূতি বছর ঘুরে আমাদের মনে করিয়ে দেয়
শৈশবের নিষ্পাপ দিনগুলোর কথা,
ঘরের মেয়ে উমার ঘরে ফেরার কথা।
একটু দূরের নদীর কূলে তাকালেই চোখ জুড়িয়ে যায়।
দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে শুভ্রতার এক অপূর্ব বিস্তার।
হালকা বাতাসের দোলায় হেলেদুলে ওঠে
কাশবনের মাথা।
দূর থেকে দেখলে মনে হয়,
নীল আকাশের মেঘের দল যেন কোল ঘেঁষে
নেমে এসেছে মর্ত্যের মাটিতে।
কাশফুলের ওই মৃদু দোলা যেন
প্রকৃতির নিজস্ব আরতি।
নদীপাড়ের বাতাস যখনই বইতে শুরু করে,
কাশবন দুলতে দুলতে জপ করে চলে
এক অনন্ত আগমনী গান।
তারপর হঠাৎ একদিন ভোরের মেঠো আকাশে
বেজে ওঠে চণ্ডীপাঠের সুর।
বীরেন ভদ্রের সেই পরিচিত কণ্ঠ
আর ঢাকের কাঠি একসঙ্গে জানিয়ে দেয়—
শুভ মহালয়া।
শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের মেঠো পথ,
সব জায়গায় তখন আলোর উৎসব।
কাশফুল আর শিউলির সুবাসে মিশে যায়
ধূপধুনো আর প্যান্ডেলের চেনা গন্ধ।
এই শরৎ আমাদের শেখায়
কীভাবে অল্পতেই আনন্দ খুঁজে নিতে হয়।
শিউলির মতো আয়ু অল্প হলেও
চারপাশ কীভাবে সুবাসিত করে রাখা যায়,
আর কাশফুলের মতো নদীর চরে
একলা দাঁড়িয়েও বাতাসে হেলেদুলে
জীবনকে উদ্যাপন করা যায়।
ঢাকের গুরুগুরু শব্দে, শাঁখের ধ্বনিতে,
আর প্রদীপের সলতেয় জ্বলতে থাকা আলোয়
আজ ধুয়ে যাক পৃথিবীর সব জঞ্জাল।
এই পুজোর দিনগুলোতে মানুষ আবার ফিরে পাক মানুষকে,
হারিয়ে যাওয়া সুরগুলো ফিরে আসুক
প্রেমে আর সহমর্মিতায়।
শিউলি ও কাশের এই শুভ্র সমারোহে মেতে উঠুক প্রতিটি প্রাণ।
এই কবিতার আবৃত্তি
এই কবিতার কোনও প্রকাশিত আবৃত্তি এখনও আর্কাইভে নেই।
আপনার অনুভূতি
কনটেন্ট রিপোর্ট করুন
অভিযোগ জানাতে সদস্য হিসেবে প্রবেশ করুন।
মন্তব্য ও উত্তর