সামান্য কথা
পড়া: 2
ডাউনলোড: 0
প্রিন্ট/PDF: 0
শাস্ত্রমতে হল বিয়ে মহাধুমধাম।
পাত্র-পাত্রীর বিজ্ঞাপন রোজ রবিবার
বাপে-মায়ে ছবি দিল আনন্দবাজার।
চারদিকে থই থই শুধু খাবি খাই
শোনো তবে গল্পখানা ফ্ল্যাশব্যাকে যাই।
সন্ধেবেলা বন্ধু চল শুধু তারা গুনি
জোনাক পোকার কত অভিযোগ শুনি।
ইচ্ছা ছিল বি-এ পাশ হব বিদ্যাধরী
আমার কী সাধ্য বলো অন্য পথ ধরি।
গালে-গল্পে পড়াশোনা প্রাইমারি শেষ
চালে ডালে নুনে তেলে দিন কাটে বেশ।
ডান ধারে বাঁকা নদী বাম ধারে মাঠ
ছোটো ছোটো দাগে লেখা আমার ললাট।
দিকে দিকে উঁচু বাড়ি হেলানো বিকেল
ফর্সা ছেলে ফুল দেয় যেন মাইকেল।
ছোটো ঘরে শীত আসে করে রাখি বশ
শোনো— ছেলে; আমি কিন্তু— সবে একাদশ।
এর ঘরে ওর ঘরে এটিকে বেঙ্গল
প্রথম চুমুতে আমি হয়ে উঠি লাল।
তবু তার একদিন কেটে যায় ঘোর
আমাকে এখন তার খুব লাগে বোর।
একদিন স্বপ্ন সব ধুয়ে যায় জলে
কালো ফর্সা কেউ নাই ধু-ধু রাত্রি জ্বলে।
সন্ধেবেলা টিউশন ছোটো তস্য গলি
পাড়ার দাদারা মিলে খেলে রক্ত হোলি।
ট্রেনে বাসে ছোঁও কেন ভীষণ বিপদ
উঠি নামি কাজে যাই নই নিরাপদ।
সারাদেহে বিষ শুধু নেই তো অমৃত
কথা যা উগরে ওঠে বেদনা জনিত।
আমি দেবী অন্নপূর্ণা, আমি মহামায়া
সংসার আগলে রাখি দিই তরুছায়া।
সিঁদুরে তাপসী আমি; —আমি সুচরিতা
দিল্লিতে নির্ভয়া আমি হয়েছি ধর্ষিতা।
এতো যদি ধর্ম-ধ্বজা, ধর্ম যদি বর্ম
মন্দির তো আগলে রাখো, কেন পোড়ে চর্ম।
ফুলমেলা বইমেলা দিন রাখো গুনে
আমার কথা তো কেউ রাখো না-গো মনে।
একখানে বেড়ে উঠি অন্যখানে ধীর
আমিই কেবল যেন এক মুসাফির।
ধন-ধান্যে-গন্ধে-পুষ্পে জগত জননী
রেখেছ মা মেয়ে করে মানুষ করোনি।
এই কবিতার আবৃত্তি
এই কবিতার কোনও প্রকাশিত আবৃত্তি এখনও আর্কাইভে নেই।
আপনার অনুভূতি
কনটেন্ট রিপোর্ট করুন
অভিযোগ জানাতে সদস্য হিসেবে প্রবেশ করুন।
মন্তব্য ও উত্তর