মহালয়া এলে
পড়া: 2
ডাউনলোড: 0
প্রিন্ট/PDF: 0
ছেলেবেলার কথা
ছেলেবেলার গাছ ঝাঁকিয়ে শিউলি ফুল কুড়ানোর কথা
ক্ষিতিশ জোঠু দের উঠোনের শিউলি গাছ।
সাজি ভর্তি ফুল। পূজার জন্য... এখনো কি গাছতলা থেকে
কুড়িয়ে নেয় শিউলি ফুল? কোনো ছোট্ট ছেলে অথবা মেয়ে!
বড় জানতে ইচ্ছা করে।
আমাদের ছেলেবেলায় এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি চলে
যাওয়া যেত।
ছিল না মাঝখানে কোনো দেওয়াল অথবা প্রাচীর ।
এক পাড়া থেকে অন্য পাড়া তেও
ফুল কুড়ানোর জন্য অনায়াসে চলে যাওয়া যেত।
কেউ বলতো না কেন এসেছিস এখানে?
মহালয়া এলে আমার
বন্ধুদের কথা মনে পড়ে
ঘুম ঘুম চোখে বীরেন্দ্র কৃষ্ণের স্তোত্র পাঠ শুনে
আবার ঘুমিয়ে
সকালে ওদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা।
ওদেরও কি মনে পড়ে এই কথা গুলো?
মহালয়া এলে আমার জানতে বড় ইচ্ছা করে
মহালয়া এলে
হারিয়ে যাওয়া মানুষদের কথা..
যাদের সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হবে না
আমার দাদু আর দিদার কথা মনে হয়
দিদা বলতো, আকাশের মতো বড় হও।
একবার দিল্লী গিয়ে খুব সকালে দিদার কথা মনে পড়ায়
খুব কেঁদেছিলাম
মহালয়া এলে আমার সেসব কথা খুব মনে পড়ে
মহালয়া এলে
যাদের সঙ্গে কত দিন দেখা হয় নি
আর কোনোদিন হবে কিনা জানিনা!
বাইরে থাকলে মনে হয় বাড়ির কথা
বাড়িতে ফেরার কথা...
মাকে
বাবা বলে -এসেছিস?
আর কিছু বলে না।
পৃথিবীর সব বাবারা বোধহয় এটুকুই কথা বলে।
আমার মনে হয় আমিও তো বাবার সঙ্গে
খুব সংক্ষেপে কথা বলেছি
কত কথা বলা হলো না বাবাকে
মহালয়া এলে আমার মনে পড়ে যায় সেই কথা...
পৃথিবীর সব বাবাদের সঙ্গেই কি কম কথা বলা হয়?!
জানি না। তবে জানি
অনুশোচনা আর আফসোস হাত ধরাধরি করে আসে।
দিগন্ত থেকে আসা ভোরের আলো মন শুদ্ধ করে
জীবনের যা কিছু ভুল তার জন্য কষ্ট হয়
মা দুর্গা হেসে বলেন
পাগল! কাঁদিস কেন?
আমি তো এসেছি
তোদের সব মন খারাপ ভালো করে দিতে
পাড়ার মৃৎশিল্পী পরিতোষ কাকু
মায়ের চোখ এঁকে
কিছু পরে আবার এসে
দুঃখ হরণ করা মাকে প্রণাম করবেন বলে...
এই কবিতার আবৃত্তি
এই কবিতার কোনও প্রকাশিত আবৃত্তি এখনও আর্কাইভে নেই।
আপনার অনুভূতি
কনটেন্ট রিপোর্ট করুন
অভিযোগ জানাতে সদস্য হিসেবে প্রবেশ করুন।
মন্তব্য ও উত্তর